ককটেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই জন আটক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫৭ পিএম

ছবিঃ একাত্তর পোস্ট
সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলায় বালু ব্যবসার সিন্ডিকেটের জের ধরে হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১০ই অক্টোবর) বিকালে উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বর চরিয়াশিকা মহল্লায় এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বোমা বিস্ফোরণে আহত কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে যশোর জেলার মোবারকপুর উপজেলার ঝিকড় গাছা গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে আলামিন (২৩) এবং ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুর উপজেলার তালশার বাদতাপাড়া গ্রামের আকেশ আলীর ছেলে মিখাইল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১২ সদস্য।
স্থানীয় ইসমাইল হোসেন বলেন, মৃত শাহীন আলমের বাড়িটি মাস চারেক আগে দুই যুবককে ভাড়া দেয় কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম। বাসা ভাড়া দেওয়ার কিছু দিন পরে সেখানে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের জের ধরে একজনকে ধরে এনে কয়েক যুবক মিলে আটকে রেখে নির্যাতন করে। মাঝে মধ্যে চিৎকারের আওয়াজও শোনা যেতো।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হতো বলে জানা যায়।
আটককৃতরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের সাথে একটি বড় চক্র এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
সলঙ্গা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকালে চরিয়াশিকা এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে জানা যায়, এই বাড়িটি ভাড়া নেওয়া কয়েকজন যুবক। তারা মাঝে মাঝেই সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে কী যেন করতে থাকে যা জানতো না এলাকাবাসী।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বালু ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তারকে ডেকে আনে বালু ব্যবসার কথা বলে। এখানে থাকা ৭-৮ জন যুবক তার সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর নানাভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণ দাবি করে। এতে সাত্তার ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে যুবকরা দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় বোমা বিস্ফোরণে বাড়ির কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম আহত হয়।
ওসি আরও জানান, র্যাব-১২ তাদের দু’জনকে আটক করেছে বলে জানতে পেরেছি। সন্ধ্যায় আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে সলংগা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
র্যাব-১২ এর ডিআইজি মারুফ হোসেন মঙ্গলবার (১১ই অক্টোবর) সকাল ১০ টায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মূলহোতা শামীম হোসেনের নেতৃত্বে এই নির্জন বাড়িতে বড় ধরনের একটি চক্র সক্রিয় ছিল।
বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ভাড়া করে আনা হতো। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। মূলহোতাকে পাওয়া গেলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান তিনি।