সাংবাদিক পরিবার ৪ দিন ঘরে অবরুদ্ধ

মোঃ সবুজ, ভোলা

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৯ পিএম


সাংবাদিক পরিবার ৪ দিন ঘরে অবরুদ্ধ

ছবিঃ একাত্তর পোস্ট

একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোরের ভোলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জুন্নু রায়হান ও তার পরিবার গত ৪ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গৃহবন্ধী হয়ে তারা এক রকম মানবতার জীবনযাপন করছে।

ভোলা শহরের গাজীপুর রোডস্থ জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক জুন্নু রায়হানের বাসার প্রায় ২৫ বছরের চলাচলরে রাস্তা পাশ্ববর্তী প্রতিপক্ষরা ইট রেখে বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা থানার পুলিশ হাঁটাচলার ওই রাস্তা উন্মুক্ত করতে নিদের্শ দিলেও তা মানেনি প্রতিপক্ষরা।

এ ঘটনায় ভোলার পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষক জুন্নু রায়হান জানান, তার প্রতিবেশী মোকাম্মেল হক ঝন্টুর বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ১৯৮৭ সালে তারা ৭ শতাংশ জমি কিনে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে।

এমনকি বাসার সামনে দিয়ে চলাচলের পথ যৌথ ভাবে প্রায় ২৫ বছর সকলেই ব্যবহার করে আসছে।

কিন্তু ২০২০ সালে ঝন্টু গং তাদের পৈতৃক জমি ভাগ করার সময় বাড়ির এজমালি পথের জন্য কোন জমি না রেখেই তাদের ভাইবোনদের মধ্যে সমুদয় জমি ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

এজমালি পথ রাখার জন্য জুন্নু রায়হান ওই সময় ভোলা পৌর সভার শালিস বোর্ডের সভাপতি ও কাউন্সিলর শাহে আলমকে অনুরোধ করেন। তিনি চেষ্টাও করেন।

কিন্তু ঝন্টু গং এজমালি পথ রাখতে রাজি হন নি। পরে জুন্নু রায়হানের বাড়ির মধ্য দিয়ে ৮ ফুটের একটি পথ নিতে চায়। এতে করে জুন্নু রায়হানের বাড়ির এক শতাংশ জমি চলে যাবে। ওই প্রস্তাবে জুন্নু রায়হান রাজি হয়নি।

পরে পৌরসভার প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাতায়াতের জন্য ৪ ফুটের পথ রেখে অর্থাৎ  প্রায় আধা শতাংশ জমি ছেড়ে দিয়ে জুন্নু রায়হান তার বাড়ির বাউন্ডারির দেওয়াল তোলেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝন্টু গং যাতায়াতের পথে দেওয়াল তুলে তাকে প্রথম অবরুদ্ধ করে রাখে। এমনিক আলালতে দেওয়ানি ২৯৮/২১ নং মামলা করেন।

দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত প্রায় ৩ মাস আগে পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নিজে উপস্থিত থেকে ওই দেওয়াল ভাঙ্গার ব্যবস্থা করে সকলের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেন।

কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আবার ওই চলাচলের রাস্তায় ইটের স্তুুপ রেখে পথ আটকে দেয়।

এদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে সেখানে যাতে কাজ করতে না পারে সেজন্য ভোলা এডিএম কোর্টে আবেদন করা হয়।

আদালত পুলিশকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেয় এবং ইট সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন।

পরে পুলিশ ও তাদের নোটিশ দেন, কিন্তু প্রতিপক্ষরা সেখানে ইটের স্তুপ না সরিয়ে পথ বন্ধ করে রেখেছে।

পুলিশ ইট সরিয়ে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বললেও ঝুন্টু গং তা অমান্য করে।

এদিকে ঝুন্টু গংদের পক্ষ বলছে, আমাদের জমি দিয়ে অন্য কাউকে হাঁটতে দিবো না। আমাদের পথ আমরা বন্ধ করেছি।

আমরা জুন্নু রায়হানদেরকে ৮ ফুটের রাস্তার জমি ছাড়তে বলেছি, সে ৪ ফুট ছাড়ছে। এতে রাস্তা হয় না। সে ৮ ফুট না ছাড়লে আমাদের জমি দিয়ে তাকে কোন পথ দেয়া হবে না।

অপর দিকে ঝন্টুর ছোট বোন রুমা জানান, তার পৈত্রিক জমি ৫ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকেলেও তাকে দেয়া হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ শতাংশ। তার প্রাপ্ত জমি ভাই-বোন কেউ বুঝিয়ে দেয় নাই।

তার পুরো জমি তাকে বুঝিয়ে দিলে তার জমির সামনে দিয়ে তখন হাঁটা চলার জমি ছাড়বে। এ অবস্থায় সাংবাদিক জুন্নু রায়হানের পরিবার ঝুন্টু গংদের কাছ থেকে জমি কিনে এখন চরম বিপাকে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা মডেল থানার ওসি শাহিন ফকির জানান, আদালতের নির্দেশ অনুসারে পুলিশ  ১৪৪/১৪৫ জারি করছে। শান্তিশৃঙ্খলার জন্য নোটিশ প্রদান করেছি। কোর্টের দিক নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।

Link copied